ঢাকা | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে বিমানবন্দরে যা ঘটলো, এটা বর্বর ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তা যৌতুক নয় : হাইকোর্ট হাঁটুর ক্ষয় সারাতে নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা দেখালেন গবেষকেরা তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড বৃত্তি, নভেম্বরে শেষ আবেদন সরকারি দাম ১৮৩৭, ঢাকায় কেন ২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সুপার স্পেশালাইজডের মালিকানার ৯০% বিএমইউর, ১০% সরকারের ভর্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা ‘অন্যপাতা’, নেপথ্যে ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আসছে নতুন পলিসি ইবনে সিনা ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, কর্মস্থলে হাসপাতালে শরণার্থী থেকে বক্সার, রামলা আলির জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র কিশোর-কিশোরীদের ৪৭% বিষণ্ণ, উদ্বিগ্ন ৩২% প্রধানমন্ত্রী, ট্রেন টিকিটের কালোবাজারি ঠেকাতে এক মাস ক্ষমতা দিন পর্দার ‘প্রহার’ থেকে সৈনিক, চলে গেলেন সেই বিশ্বনাথ পাটেকার আফগানিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা, খেলা শুরু ১৩ অক্টোবর দেশে বছরে উৎপাদিত হয় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম তিন বছর পর শুরু হচ্ছে হকি লিগ, দল ১১টি ওবামা থেকে ওসামা, সবার পছন্দ এই ঘড়ি ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা কেন ৬ দিন বন্ধ রাখা হচ্ছে নামের আগে ‘সংযুক্ত’ শব্দের ব্যবহার পরিহার দাবি শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে সম্পদের বৈষম্য, ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে
ad728

সদকাতুল ফিতরের বিধান

রিপোর্টারের নাম: The Daily Moon
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Oct 17, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: সদকাতুল ফিতরের বিধান

‘সদকাতুল ফিতর’-এ দুটি আরবি শব্দ রয়েছে। সদকা মানে দান আর ফিতর মানে রোজার সমাপন বা ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করা সদকাকেই সদকাতুল ফিতর বলা হয়। এটিকে জাকাতুল ফিতর বা ফিতরাও বলা হয়ে থাকে।

শরিয়ত মতে, সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। পবিত্র হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটি ওয়াজিব।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ১৫১২)

সদকাতুল ফিতর কেন :
জাকাতের মতো সদকাতুল ফিতরও একটি আর্থিক ইবাদত। পবিত্র মাহে রমজানে সিয়াম পালন করতে গিয়ে সাধারণত আমাদের অনেক ভুলত্রুটি হয়ে যায়। সেই ত্রুটিবিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হিসাবে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদতের নাম সদকাতুল ফিতর। এটি পরম করুণাময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পবিত্র উপহারও বটে।

সদকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য: শুধু ‘গরিবদের ঈদের খুশিতে শরিক করা’ বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা যথার্থ নয়। কেননা হাদিস শরিফে সদকাতুল ফিতরকে কাফফারাতুন লিসসাওম, অর্থাৎ রোজা অবস্থায় অবচেতনভাবে যে ত্রুটিবিচ্যুতি হয়ে যায়, তার কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কার ওপর ওয়াজিব :
সদকাতুল ফিতরের নিসাব জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ। অর্থাৎ কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যাঁর ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। তবে এতে জাকাতের মতো বর্ষ অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। (ফাতহুল ক্বাদির : ২/২৮১)। এমনকি পবিত্র রমজানের শেষ দিনেও যে নবজাতক দুনিয়ায় এসেছে কিংবা কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার পক্ষ থেকেও সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/১৯২)

সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ :
এর পরিমাণ সম্পর্কে শরিয়তে দুটি মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হচ্ছে ‘এক সা’ বা ‘নিসফে সা’। খেজুর, পনির, যব ও কিশমিশ দ্বারা আদায়ের ক্ষেত্রে এক ‘সা’=৩২৭০.৬০ গ্রাম (প্রায়), অর্থাৎ তিন কেজি ২৭০ গ্রামের কিছু বেশি। এ ছাড়া গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে ‘নিসফে সা’=১৬৩৫.৩১৫ গ্রাম বা ১.৬৩৫৩১৫ কেজি (প্রায়), অর্থাৎ এক কেজি ৬৩৫ গ্রামের কিছু বেশি প্রযোজ্য হবে। (আওজানে শরইয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৮)

রাসুল (সা.)-এর যুগে মোট চারটি পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা হতো। খেজুর, কিশমিশ, যব ও পনির। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আমরা এক সা পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা পরিমাণ যব অথবা এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ পনির অথবা এক সা পরিমাণ কিশমিশ দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (বুখারি, হাদিস : ১৫০৬)

উল্লিখিত খাদ্যবস্তুর পরিবর্তে সেগুলোর কোনো একটিকে মাপকাঠি ধরে তার মূল্য আদায় করলেও তা আদায় হয়ে যাবে। মূল্যের দিক থেকে ওই খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তফাত থাকলেও সবচেয়ে কম দামের বস্তুকে মাপকাঠি ধরে যদি কেউ ফিতরা আদায় করে দেয়, তাহলেও তা আদায় হয়ে যাবে। বর্তমান বাজারদর হিসাবে যেহেতু গমের দামই সবচেয়ে কম, তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর আধা ‘সা’ গমকে মাপকাঠি ধরে ওই সময়ের বাজারদর হিসাবে তার মূল্য ফিতরার সর্বনিম্ন পরিমাণ ঘোষণা করা হয়। এ বছর তা ৭০ টাকা। তবে এর মানে এই নয় যে ধনীরাও তাদের ফিতরা ৭০ টাকাই আদায় করবে। উত্তম হলো, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে ফিতরা আদায় করা। কেননা সদকার মূল লক্ষ্যই হলো গরিবদের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ। এ ছাড়া আদায়কারীর সামর্থ্যকেও বিবেচনায় রাখা উচিত, যদিও শরিয়তে সর্বনিম্ন মূল্যে ফিতরা আদায় করার দরজা খোলা রাখা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনিরের হিসাবে ফিতরার আলাদা মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ চাইলে আটার হিসাবে ফিতরা না দিয়ে উল্লিখিত জিনিসগুলোর হিসাবেও ফিতরা দিতে পারবে।

সদকাতুল ফিতর আদায়ের সময় : পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম। তবে জাকাতের মতো সে সময়ের আগে রমজান মাসেও তা আদায় করা যায়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
ad600